দরিদ্র ফেরিওয়ালার মেয়ে তামান্না মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও স্বপ্ন অনিশ্চিত

বাবা বাজারে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। এর মাধ্যমে যা আয় তা দিয়েই চলে পরিবারের খরচ। এমন পরিবারের সন্তান তারজিনা আক্তার তামান্না।

আর এই তামান্নাই এবার মেডিক্যালে ভর্তিযুদ্ধে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তামান্নার স্বপ্ন ডাক্তার হবেন।

দেশের অ’সহায় মানুষের সেবা করবেন। পরিবারের হাল ধরবেন। মা-বাবার দুঃখ কষ্ট দূর করবেন। কিন্তু এমন স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে পারে তামান্নার। কারণ তার বাবার পক্ষে সম্ভব নয় মেয়েকে মেডিক্যালে ডাক্তারি পড়ানো তথা ভর্তি করার।

এত টাকা তিনি কোথায় পাবেন? পরিবারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা থাকলেও তামান্নার মেধা ও আগ্রহের কমতি নেই। ফলে আশা আর হতাশায় দুলছে তামান্নার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যে কী আছে- এমন প্রশ্ন বার বার উঁকি দেয় তার মনে। কিন্তু উত্তর খুঁজে পান না তামান্না।

এ দিকে মেয়ের মেধার সাফল্যের খবর শুনে দরিদ্র মা-বাবাও খুশি। কিন্তু পরক্ষণেই তাদের কপালে দু’শ্চিন্তার ভাঁজ। ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও যদি মেয়েকে ডাক্তারি পড়াতে না পারেন এ ব্যর্থতা তো তাদেরই। এমন ভাবনায় নিজেকে অপরাধী ভাবেন বাবা তারা মিয়া।

কিন্তু কী বা করার আছে! চেষ্টার তো কমতি ছিল না। এমন সব কথা ঘুরে ফিরে হৃদয় কো’ণে উঁকি দেয় তারা মিয়ার।জানা গেছে, এবার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারজিনা আক্তার তামান্না। গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তামান্না। তার টেস্ট স্কোর ৭১.৫, মেরিট স্কোর ২৭১.৫, মেধা তালিকার স্থান ২২৬৭। তিনি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেলদহ গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে। তামান্না ২০১৮ সালে জয় মনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

তামান্না বলেন, মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। কিন্তু ভর্তি ফি, হিউম্যান ব্র’ঞ্চ ক্রয় ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন। আমার পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগার করা অlসম্ভব।দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া দু’বোনের মধ্যে তামান্না বড়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তামান্না মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারের পাশাপাশি গ্রামবাসীও খুশি। কিন্তু তামান্নার বাবার চোখে দুশ্চিন্তা ভর করেছে।তামান্নার বাবা তারা মিয়া বলেন , সংসার চালাতে বিভিন্ন হাট-বাজারে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করি। কোনোমতে সংসার চলে। সঞ্চয় বলতে কিছু নেই। মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি।

তামান্না এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় এনজিওটি তামান্নাকে ২৪ হাজার টাকা বৃত্তি দিয়েছে। বৃত্তির টাকা দিয়ে তামান্নাকে কোচিংয়ে ভর্তি করি। তামান্নার অনলাইন ক্লাসের সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়া প্রবাসী পরিচিত একজন একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। মেয়ে আমার অভাবের সাথে লড়াই করে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।আবেগ জড়িত কণ্ঠে তারা মিয়া বলেন, ‘জানি না তার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না।’তামান্নার মা লাইলি বেগম বলেন, বাড়ির ভিটে ছাড়া কোনো জমি নেই। তামান্নার বাবার সামান্য আয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে সংসার চলে। ডাক্তারি পড়তে নাকি অনেক টাকা লাগে? মেয়েকে ডাক্তারি পড়াতে এত টাকা কোথায় পাবো আমরা?ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ খালেদুজ্জামান জানান, তামান্না মেধাবী ছাত্রী। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তামান্না যেন দারিদ্রের কাছে হেরে না যায়, এজন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*