ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশে নিজ পরিবারকে খুঁজে পেলেন পাকিস্তানি তরুণী

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: পাকিস্তানি তরুণী তাহরিম রিদাও। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সেখানেই। তবে তার বাবা বাংলাদেশি। কিন্তু জন্মের পর বাবাকে সেভাবে কাছে পাননি। আর পাবেনও না। কারণ, তাহরিমের বাবা আর বেঁচে নেই। মারা গেছেন ১৮ বছর আগে। তবুও প্রযুক্তির সাহায্যে দীর্ঘ ২২ বছর পর তাহরিম খুঁজে বের করলেন বাংলাদেশে থাকা তার বাবার পরিবারকে।ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মুহাম্মদ কাসিম আজাদ কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন পাকিস্তানে।

সেখানে গিয়ে মেহবুবা নামে স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করেন। সে সংসারেই জন্ম হয়েছিল এই তাহরিমের।মেয়ের জন্মের পর ২২ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন কাসিম। দেশে ফিরে ২০০৪ সালে কাসিম অসুস্থ হয়ে মারা যান।তাহরিম শুধু জানতেন তার বাবার নাম এবং ফেনী জেলায় তাদের বাড়ি। অবশেষে দীর্ঘ ২২ বছর পর বাংলাদেশে বাবা কাসিমের পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানে বসেই ফেনীর একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে সন্ধান পেয়েছেন তার বাবার পরিবারের।বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টা ৫৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে রিদা ‘আমাদের ফেনী গ্রুপে’ স্ট্যাটাস দেন।সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আমি এখানে আমার বাবার পরিবার খুঁজতে এসেছি।

আমার বাবা ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান এসে আমার মাকে বিয়ে করেছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের ফেনী থেকে এসেছিলেন। তার নাম ছিল মুহাম্মদ কাসিম আজাদ। আমার দাদার নাম তফাজুল হক, যিনি সম্ভবত আমার বাবার শৈশবে মারা গিয়েছিলেন। আমি আমার বাবার পরিবার সম্পর্কে খুব বেশি বা প্রায় কিছুই জানি না।’গ্রুপে তিনি চাচার একটি ছবি দিয়ে বলেন, ‘আবু সাদিক আমার বাবার বড় ভাই। যদি কেউ এই পরিবার সম্পর্কে কিছু জানেন তবে আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা যাবে। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের হবে যা আমি কখনো দেখিনি।’

রিদা পোস্টের আরও উল্লেখ করেন, ‘কলেজে বা বাইরে গেলে তার বাবার পরিচয় জানতে অনেকেই বিরক্ত করে। পিতৃপরিচয় না থাকায় অবহেলিত হতে হয়েছে ২২ বছর। তার বাবা পাকিস্তান থাকাকালীন তার মাকে বিয়ে করেন। পাকিস্তানে তার মাকে রেখে দেশে গেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে আর পরিচয় হয়নি।’রিদা পোস্ট দেওয়ার ২৩ মিনিটের মধ্যে বাবার পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুধু তাই নয়, তার ফুপু এবং ফুপাত ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়।রিদার বাবার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঁইয়ার ফাজিলের ঘাটে। তার বাবা দেশে এসে তার মাকে চিঠি পাঠাতেন। চিঠিতে উল্লিখিত ঠিকানা থেকেই ফেনী শব্দটি পায় রিদা। পরে গুগলে সার্চ করে জানতে পারে ফেনী একটি জেলা।

পরবর্তীতে ফেনী সার্চ করে ‘আমাদের ফেনী’ নামক গ্রুপটি পায়। এরপর যাবতীয় ডিটেইলসসহ ফেসবুকে ইংরেজিতে পোস্ট করেন। এরপর ট্রান্সলেশন করে বাংলায় পোস্ট দেন অ্যাডমিন প্যানেল।পিতৃপরিচয় পেয়ে রিদা বলেন, ‘ফেনীর মানুষকে কী বলে ধন্যবাদ দেবো তা বলার ভাষা আমার নেই। আমাকে যারা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে সবাইকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। খুব শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

About admin

Check Also

সরকারের দেওয়া আশ্রায়ণের ঘর নিয়ে বিপাকে ভিক্ষুকপুত্র

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভায় সরকারের আশ্রায়ণ প্রকল্পের (খ শ্রেণি) ঘর পেয়েও সেখানে বসবাস করতে পারছেন না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *