বিয়ে না করেও সন্তানের নামে ভাতা তুলছেন শিক্ষক

কুড়িগ্রামে বয়স নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন এক শিক্ষক। একইসঙ্গে বিয়ে না করেও ভু’য়া স্বামী ও সন্তান দেখিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তুলছেন শিক্ষা ভাতাও।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজে’লা শিক্ষা অফিসার লুৎপর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এমন প্রতারণার বিষয়টি ধ’রা পড়ে শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফারে (ইএফটি) তথ্য পূরণ করতে গিয়ে।

অ’ভিযু’ক্ত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জ সদর উপজে’লার চাকলি গ্রামের বখত জামান ও রেনু বেগম দম্পতির মে’য়ে রুনা খাতুন। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজে’লার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজি পিপুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল-শিক্ষক।

জানা গেছে, ২০১০ সালে বেসরকারিভাবে শুরু হয় উপজে’লার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজি পিপুলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। সে সময় বিদ্যালয়ে থাকা চার শিক্ষকও সরকারি নিয়োগ পান। এদের একজন সহকারী শিক্ষক রুনা খাতুন। এ ছাড়া রুনা ২০১০ সালে সিরাজগঞ্জের আরিয়া মহন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৩.৬৯ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এসএসসি সনদ অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৩ আগস্ট ১৯৯৫ (২৭ বছর)। অথচ বিদ্যালয় জাতীয়করণের সময় তিনি জন্মতারিখ ১৩ আগস্ট ১৯৯০ সাল ব্যবহার করে নিয়োগ নেন।

এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে বেতন ভাতা দেওয়ার সময় তথ্য আপলোড করতে গিয়ে ধ’রা পড়ে তার এমন প্রতারণা। এ নিয়ে গত ৪ জুলাই তাকে উপজে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অ’ভিভাবক জহুরুল ই’স’লা’ম বলেন, নদী-ভাঙনের কারণে এখানে কোনো স্কুল ছিল না। কোনো শিক্ষিত মানুষও ছিল না সে সময়। পরে আম’রা এখানে স্থানীয়রা একটা স্কুল করি চারজন শিক্ষককে নিয়ে। প্রথমে রুনা আপা এখানকার বাসিন্দার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি সরকারি হন। কিন্তু তার বয়স কত ছিল সেটা তো আম’রা জানবো না? এটা সরকারের বিষয় সরকার দেখবে।

অ’ভিভাবক বালা বেগম বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরে এই চরের স্কুলে রুনা আপা চাকরি করছেন। তিনি বিয়ে করেনি এবং তার কোন বাচ্চা নেই। কিন্তু অফিসে তথ্য কি দিয়েছে সেটাতো বাপু হাম’রা কমু ক্যামনে’?শিক্ষক রুনা খাতুন ভু’য়া জন্ম সাল ও অবিবাহিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, বয়স ঠিকঠাক করে শোকজের জবাব দিয়েছি। তিনি আরও স্বীকার করেন, সন্তান না থেকেও ২০১৭ সাল থেকে তিনি সন্তানের নামে ৫০০ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা তুলেছেন।

প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, স্কুলটি যখন বেসরকারি ছিল, তখনই একসঙ্গে আম’রা চারজন ২০১০ সালে শিক্ষক নিয়োগ পাই। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। কিন্তু সহকারী শিক্ষক রুনার জন্মসাল ভু’য়া ছিল তা আম’রা কাগজপত্র দেখে টের পাইনি। ইএফটি পূরণের সময় বিষয়টি সবার নজরে আসে। বর্তমানে এ বিষয়ে উপজে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তা ত’দ’ন্ত করছেন।

এ বিষয়ে উপজে’লা শিক্ষা অফিসার লুৎপর রহমান বলেন, ত’দ’ন্ত শেষ হয়েছে। অ’ভিযু’ক্ত শিক্ষকের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা এলেই তার বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About admin

Check Also

মহিলা আ.লীগের সভাপতি চুমকি, সম্পাদক শীলা

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *