এবার সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, তবে তদন্ত নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা

আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, নীপিড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। তবে সরকার পক্ষ থেকে ভিন্ন অভিযোগ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ভোলা ও নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় পুলিশের কর্মকান্ডে ভিন্ন চিত্র প্রকাশ পায়। বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। নারায়ণগঞ্জের মিছিলে গু/লি চালানো সেই পুলিশ কর্মকর্তার নিয়ে বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থার নেওয়া হল।

সেদিনের ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা যায়, বিএনপির নেতা-কর্মীরা যখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন, তখন কনক দাঁড়িয়ে, নিচের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এবং হাঁটু গেড়ে সরাসরি নেতা-কর্মীদের দিকে গু/লি করছেন। তবে সেই রা/ইফেল তার ছিল না। তিনি অন্যের রা/ইফেল হাতে তুলে নিয়ে গু/লি করেন। অন্য একজনের নামে বরাদ্দ করা রা/ইফেল তুলে নিয়ে গু/লি করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় রা/ইফেল দিয়ে গু/লিবিদ্ধ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাহফুজ কনকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে গোয়েন্দা শাখা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার গু/লি চালানোর বিষয়টিও তদন্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময় দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় তাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গু/লি চালায় কনক।
সংঘর্ষের সময় শাওন প্রধান নামে এক যুবক নি/হত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে সারাদেশে বিক্ষোভ করছে বিএনপি। তারা অভিযোগ করছেন, কনকের গু/লিতে মৃ/ত্যু হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কাজ করা কনক ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল একটি লাঠি। অন্য একজন পুলিশ সদস্যের হাতে থাকা রা/ইফেল তুলে নিয়ে তিনি গু/লি করেন।
অন্যের অ/স্ত্র তুলে গু/লি করার সুযোগ নেই। এছাড়া সেদিন আদৌ গু/লি করার পরিস্থিতি ছিল কি না তা নিয়েও চলছে বিতর্ক। তবে এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফখরুদ্দিন ভূঁইয়াও কনকের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে পুলিশ কক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি হয়েছে কি না তা জানেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলছেন না।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ একাধিক কর্মকর্তা ‘তারা কিছু জানেন না’ বলে ফোন কেটে দেন।

কনক খুব আক্রমণাত্মক ছিল, অন্যের হাত থেকে অ/স্ত্র নিয়েছিল
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে মাহফুজ কনক অন্য ডিবি পুলিশদের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। কনকের ডান হাতে একটি লাঠি আর বাম হাতে ওয়্যারলেস। আরেক অংশে দেখা যায় কনকের হাতে চা/ইনিজ রাইফেল। তিনি গু/লি করছেন বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে।
ওইদিনের ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা যায়, বিএনপি নেতা-কর্মীরা যখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিল, তখন কনক দাঁড়িয়ে, সামান্য নিচু হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে সরাসরি নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে গু/লি ছুড়ছিল।
ওই ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে কনককে ভোলা থেকে নারায়ণগঞ্জে বদলি করা হয়। ভোলায় থাকাকালেও বিএনপির মিছিলে পুলিশের গু/লিতে দুজন নি/হত হন। তবে কে বা কারা এ গু/লি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যকে বলেন, একজনের অ/স্ত্র আরেকজনের ব্যবহার করা যাবে না। তবে তিনি নাম প্রকাশে রাজি হননি।

নারায়ণগঞ্জ জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, “আইনে বলা আছে একজন পুলিশ সদস্যের কাছে অ/স্ত্র থাকবে, সে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু অন্য কারও অ/স্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
গু/লি করার মতো পরিস্থিতি ছিল কি?

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যকে জানান, ওই দিন কনক একটি চাই/নিজ এসএমজি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু রাই/ফেল দিয়ে গু/লি করে। বড় ধরনের কোনো সং/ঘাত হলে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় এটাকে বড় ধরনের সংঘাত বলা যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপি এমনও দাবি করেছে, সেখানে সরাসরি বু/লেট ব্যবহারের মতো কোনো পরিস্থিতিই ছিল না। তার পরও কার নির্দেশে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, সেটি জানতে চান নেতারা।
সম্প্রতি দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যকে সঙ্গে আলাপকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু সেদিন গু/লি করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে প্রথমে কী পরিস্থিতি ছিল তা সকলে দেখেছে। বরগুনা ও নারায়ণগঞ্জের দুটি দুই রকম প্রেক্ষাপট। আমরা প্রায় ১ ঘণ্টা পর সেখানে গিয়েছি। তখনও দেখেছি পুলিশ বক্সের ভেতরে ইটপাটকেল, বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়কে। তাদের হা/মলায় আমাদের ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে পারে।’
রাইফেল দিয়ে গু/লি করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে না কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত হবে। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শুরু হবে তা ঠিক করবেন পুলিশ সুপার।
তবে পুলিশ সুপার এ বিষয়ে কিছু বলেননি

প্রসঙ্গত, বিএনপি মিছিলে গু/লি করার পরিস্থিতি ছিল না বলে দাবি করা হয় বিএনপি কিন্তু এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি সে দিন প্রকৃত কি ঘটেছিল। তবে পুলিশের এমন কর্মকান্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

About admin

Check Also

স্কুলে ডেকে এনে প্রেমিককে জাপটে ধরে রোমান্সে মাতলেন ছাত্রী, এলাকাজুড়ে হইচই

সিনেমায় রোমান্টিক দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায়, যে সময় প্রেমিক প্রেমিকার মনেও রোমান্স জাগে। এটাই স্বাভাবিক। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *