সমকামি হওয়ায় নিজের ভাইয়ের পরিচয় গোপন করেছেন দিপু মনি : ওমর ফারুক

সম্প্রতি নারীদের পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে নানা কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি তিনি মুলত বলেছিলেন খন আধুনিক যুগ, রোবটিক যুগ, এখন নারীদের পোশাকের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার সময় নয়। যারা পোশাক নিয়ে তৎপর হয়েছেন তারা দেশের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। তবে তার এই মন্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দীপুু মনিকেও আমি অবিশ্বাস করি। যখন তিনি প্রগতিশীলতার কথা বলেন, তখনও।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বক্তৃতার কিছু অংশ ভাইরাল হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন,-

“এখন আধুনিক যুগ, রোবোটিক্সের যুগ, এখন নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার সময় নয়।”

আর এতেই বাংলার গোল্ডফিস মেমোরির শিক্ষিত প্রগতিশীলেরা দীপু মনিকে বেগম রোকেয়ার উচ্চতায় তুলে ফেলেছেন।
আসুন আপনাদেরকে মনে করিয়ে দিই, –
২০১৩ সাল। আল্লামা শফি এবং তার হেফাজতে ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে মধ্যযুগীয়, বর্বর আর চরম সাম্প্রদায়িক ১৩ দফা দাবী পেশ করলো। নাস্তিকতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবী করলো। দীপু মনি তখন আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন। তিনি তখন বলতে পারতেন,- এখন আধুনিক যুগ, গণতন্ত্রের যুগ, মধ্যযুগীয় শরিয়া আইনের সময় নয়। মুক্তচিন্তা আর মত প্রকাশের স্বাধীনতার যুগ। মানুষের স্বাধীনতা, নারীর অধিকার আর মুক্তচিন্তাকে রুদ্ধ করার সময় নয়।

কিন্তু সেদিন দীপু মনি তা বলেন নি। ২০১৫ সাল। অভিজিৎ রায় এবং অনন্ত বিজয় সহ দেশের বেশ কিছু বিজ্ঞান লেখক আর ব্লগার খুন হয়ে গেছে।এখন বিজ্ঞানের যুগ, নাস্তিকতার যুগ, নাস্তিকতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সময় নয়। দীপু মনি এরকম কিছু বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি কিছুই বলেন নি।
২০১৬ সাল। দীপু মনির ভাই জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধু তনয় সমকামিতার কারণে নির্মমভাবে খুন হলেন মৌলবাদীদের হাতে।

সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়। সমকামিতা মানুষের একটি স্বাভাবিক যৌনচরিত্র, ব্যক্তিগত অধিকার এবং প্রাকৃতিক বিষয়।
উচ্চশিক্ষিত এবং প্রগতিশীল দিপু মনির সেদিন এই কথাগুলো বলা খুবই প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তিনি চুপ ছিলেন। শুধু তাই নয়, সমকামি হওয়ায় নিজের ভাইয়ের পরিচয় গোপন করেছেন।

২০১৭ সাল। দীপু মনির নিজের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চরম স্বৈরাচারী আর জনগণের চিন্তা ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার বিরোধী কালো আইন ৫৭ ধারা প্রনয়ণ করলো। দীপু মনি সে কালো আইনের বিরোধিতা করেন নি।
২০১৮ সাল। দীপু মনির দল এবং নেত্রী রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ডাকাতি করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করলো। দীপু মনির তাতে আত্মসম্মানে বাঁধেনি। তিনি তার স্বৈরাচারী দল থেকে পদত্যাগ করেন নি। আওয়ামী লীগের রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে বর্জনও করেন নি।
সর্বশেষ, দীপু মনি একটা অবৈধ এবং চরম স্বৈরাচারী সরকারের শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের ১ কোটি বিপথগামী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা নিয়ে দীপু মনির কোনো ভাবনা কি আপনারা দেখতে পান?
রাষ্ট্র, সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় তার দলের ক্রমাগত ইসলামীকরন আর মৌলবাদকে তোষণের বিরুদ্ধে দীপু মনির কোনো প্রগতিশীল অবস্থান কি আছে?
তাই গণতন্ত্র, আধুনিকতা আর প্রগতিশীলতার প্রশ্নে আওয়ামী লীগকে অবিশ্বাস করুন। আওয়ামী লীগকে সন্দেহ করুন। প্রশ্ন করুন। মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের আর প্রগতিশীলতার সাইনবোর্ডধারী আওয়ামী লীগকে দেশের প্রগতিশীল আর সংস্কৃতিকর্মীরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে দেশের রাজনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা আর মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সর্বনাশ করে ফেলেছে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির বক্তব্য নিয়ে সরগরম হয়েছে সামাজীক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।অনেকেই তার এই বক্তব্যের সাথে একাগ্রতা প্রকাশ করলেও এর নেতিবাচকতা নিয়েও কথা বলেছেন অনেকে। তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন একটি শ্রেণি নারীদের কাপড়ের মাপ কত হবে, তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ কত থাকা উচিত, নারীদের কপালে টিপ পরা নিয়ে বিতর্ক তুলছে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *