প্রতিশোধ না নিয়ে উন্নয়ন করছি: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বারবার নির্যাতিত হলেও ক্ষমতায় গিয়ে তার প্রতিশোধ না নিয়ে দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার সংসদের ঊনবিংশতম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ সকলের হাতেই নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর কারও প্রতি প্রতিশোধ নিতে যায় না। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন করা। তাই আমরা প্রতিশোধ নেওয়ার পথে না গিয়ে মানুষের উন্নয়নে আমাদের সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছি। আজকে তার শুভ ফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে।”

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের অত্যাচার-নির্যাতনের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে আওয়ামী লীগ পরপর তিন বার ক্ষমতায় এসেছে বলেই এই ধরনের দুর্বৃত্তায়ন মোকাবেলা করে, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করে, দেশের মানুষের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পেরেছি।”

সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা দেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাবে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের তুলনা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট কত ছিল? মাত্র ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট। আর আজকে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেই বাজেট ১১ গুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি।

“যদি উন্নয়নই না হয়ে থাকে, তাহলে আমরা আজকে লক্ষ কোটিতে পৌছালাম কীভাবে? আমাদের উন্নয়ন বাজেট, সেটাও তো ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার। করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলা করেও আমরা বাজেটের আকার এত বড় রাখতে সক্ষম হয়েছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে অর্থাৎ বিএনপি সরকারে আমলে ছিল মাত্র ৫৪৩ মার্কিন ডলার। আর আজকে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাহলে উন্নয়নটা কোথায় হল না, সেটাই আমার প্রশ্ন।”

বাংলাদেশের জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি মহামারীর মধ্যেও ৬ দশমিক ৬ শতাংশে রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“করোনাভাইরাস মহামারী দেখা না দিলে ও রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের ফলে স্যাংশান ও পাল্টা স্যাংশান না হলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত।”

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার কথা জানিয়ে তার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে এই সময়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সেই সঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির বহিঃখাতে কিছুটা চাপ অনুভূত হলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ খাদ্য ঝুঁকিতে নেই। আইএমএফও বলছে যে বাংলাদেশ সঙ্কটে নেই।

“যদিও চলতি হিসাবের ঘাটতি হয়ে যাওয়ায় টাকার কিছুটা অবমূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি তুলনামূলকভাবে কম এবং বেশিরভাগ ঋণই দীর্ঘমেয়াদী ও নমনীয় ঋণ। ফলে আইএমএফের মূল্যায়ন অনুসারে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধজনিত কোনো ঝুঁকি নেই।”

আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী রেটিং ‘বি বি মাইনাস’ অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

যারা সঙ্কট দেখছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এমন একটা হতাশা ছড়ায় যে সব শেষ হয়ে গেল! কিন্তু নিজেরা কিন্তু ভালোই আছেন, চলছেন।”

About admin

Check Also

মহিলা আ.লীগের সভাপতি চুমকি, সম্পাদক শীলা

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *