গুম নিয়ে মিশেল ব্যাচেলেটের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করলো ঢাকার মার্কিন দূতাবাস

৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগগুলো গভীরভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবার সকালে নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানিয়েছে তারা। এতে বলা হয়, সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগগুলো নিয়ে যে গভীর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা পুনর্ব্যক্ত করছে মার্কিন দূতাবাস।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরের সময় ব্যাচেলেট বলেছিলেন, সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে গুরুতর অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং স্বচ্ছ তদন্তের ওপরে জোর দেন। এছাড়া নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সংস্কারের কথাও বলেন তিনি। মার্কিন দূতাবাস ফেসবুকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।

ওই পোস্টের সঙ্গে মিশেল ব্যাচেলেটের বক্তব্যের লিংক যুক্ত করে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ব্যাচেলেট। এতে তিনি বলেছিলেন, গত কয়েক বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা গুম নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছিল। ঢাকায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ নিয়ে তার গভীর উদ্বেগের কথা তিনি জানিয়েছেন।

তিনি সরকারকে একটি স্বাধীন এবং বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছেন, যাতে করে এ ধরণের ঘটনার শিকার ব্যক্তি, পরিবার এবং সিভিল সোসাইটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করা যায়। কিভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এরকম একটি সংস্থা গড়ে তোলা যায় সেজন্যে তার দফতর বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত, তিনি বলেন।

উল্লেখ্য, ৩০শে আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। সারা পৃথিবীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দিবসটি পালিত হয় এ দিনটিতে। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সনদ হিসাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এরপর ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট গুম হওয়া মানুষগুলোকে স্মরণ এবং সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

About admin

Check Also

রোজ খেলা দেখি : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বে খেলাধুলায় আরও অবস্থান তৈরি করবো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *