‘ গুলি খেয়ে মরব, কিন্তু ৩০০ টাকা ছাড়া কাজে যাব না’

চা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আন্দোলনে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। এক গ্রুপ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে চলমান মজুরি ১২০ টাকা হারেই সোমবার থেকে কাজে ফিরেছেন। আরেক দল কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গুলি খেয়ে মরবে তবু ৩০০ টাকা ছাড়া কাজে যাবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত একাংশের শ্রমিকরা।

চা বাগানে উদ্ভূত শ্রম অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে রোববার রাত ৯টায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চা শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে চলমান মজুরি ১২০ টাকা হারেই সোমবার থেকে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।

আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে পরবর্তীতে মজুরির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। তবে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গলের শ্রম দপ্তর কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার জানিয়ে সোমবার (২২ আগস্ট) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের ১৯ চা বাগানের বেশির ভাগ বাগানের শ্রমিকরা সকাল থেকেই কাজ করলেও আলীনগর, ফুলবাড়ি, মাধবপুরসহ কয়েকটি চা বাগানের শ্রমিকরা বাগানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

দুপুর ১২টায় আলীনগর, মাধবপুর ও ফুলবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেন। উপজেলা পরিষদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহকারে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনীতে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন। চা শ্রমিকদের কেউ কেউ কাজে যোগ দিলেও, অনেকেই এখনো আন্দোলনে রয়েছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাদের আশ্বাসের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অপরদিকে রহস্যজনক কারণে মনু-দলই ভ্যালির সংগঠনের নেতৃস্থানীয় নেতাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। যার কারণে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।

আলীনগর চা বাগানের নারী চা শ্রমিক নেত্রী বিউটি নায়েক বলেন, আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি কাজে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়নি। আমরা কোনো নেতার কাছ থেকে শুনতে চাই না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ৩০০ টাকা মজুরি দাবি করছি। এর কমে হলে আমরা কাজে যাব না। প্রয়োজনে আমরা গুলি খেয়ে মরব, কিন্তু ৩০০ টাকা ছাড়া কাজে যাব না।

মনু-দলই ভ্যালির সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর তাঁতি বলেন, আমাদের নেতা এবং প্রশাসনের কথায় কোনো আস্থা নেই। যদি প্রধানমন্ত্রী আমাদের কোনো নির্দেশনা দেন তবেই আমরা রাজপথ ছেড়ে কাজে যোগ দিব। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।

এদিকে আরও জানা যায়, বেলা ১১টায় শমসেরনগর চা বাগানে মনু-দলই ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাইনকার বাড়ি ঘেরাও করেন উত্তেজিত চা শ্রমিকরা। তবে সেই সময় নির্মল পাইনকা বাড়িতে ছিলেন না। পদ্মছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কৃষ্ণলাল দেশওয়ারের দোকানে উত্তেজিত চা শ্রমিকরা ভাংচুর করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চা শ্রমিকরা কমলগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন

About admin

Check Also

মহিলা আ.লীগের সভাপতি চুমকি, সম্পাদক শীলা

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *