‘শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের পথ হারানোর সম্ভাবনা নেই’

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান উজ্জল বলেছেন, নেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন, ষড়যন্ত্র ছিল, আছে, থাকবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একমাত্র নেতা। যিনি আমাদের রক্ষা করার জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২০ ঘন্টাই জেগে থাকেন। নেত্রীর উপর সবাই আস্থা রাখেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, জেলহত্যার বিচার হয়েছে, রাজাকারদের বিচার হয়েছে। নেত্রী যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন বাংলাদেশ পথ হারানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। নেত্রী বেঁচে থাকলে, সুস্থ্য থাকলে, বাংলাদেশ তার অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে। ১৫ ই আগস্ট, ষড়যন্ত্র, এগুলো বাংলাদেশে করে আর লাভ হবে না।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি স্লুইসগেট এলাকায় জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও কাঙালী ভোজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, ১৫ ই আগস্টের মতো এরকম কলঙ্কজনক অধ্যায় পৃথিবীর আর কোনো ইতিহাসে নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা ওইদিন জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। খুনিদেরকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন করা হলো। পঁচাত্তরের ১৫ ই আগস্টের আগে থেকেই ষড়যন্ত্রগুলো চলছিল। ১৫ ই আগস্ট তো একদিনে হয়নি। খুনি জিয়াউর রহমান ছিলেন এসবের নেপথ্য নায়ক। সব ষড়যন্ত্র রুখে দেশে ফেরার পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়ে সফলভাবে দেশ পরিচালনা শুরু করলেন, তখন ষড়যন্ত্র আবার শুরু হলো। সেই ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়ে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় এলো তখন বিভিষীকাময় একটা সময় পার করতে হয়েছে দেশবাসীকে। মানুষ কিন্তু ভাল ছিল না। আর এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। এখন একজন রিক্সাচালকও দিনে এক হাজার টাকা রোজগার করছে। তাই ষড়যন্ত্র যতই হোক কোনো লাভ হবে না, শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন।
এর আগে দুপুরে উপজেলার ভবানীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম এবং গ্রামের প্রবীণ মানুষদের সাথে নিয়ে দোয়া মাহফিল ও এতিমদের দুুপুরের খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন কামরুজ্জামান উজ্জল। এ সময় তিনি ওই এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নগদ এক লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেন।

এছাড়া এদিন উপজেলার ভায়না, সাতবাড়িয়া, মানিকহাট, হাটখালি, নাজিরগঞ্জ, সাগরকান্দি, রানীনগর, আহম্মদপুর, দুলাই, তাঁতীবন্দ, রুপপুর, মাশুমদিয়া, ঢালারচর, পুরান ভারেঙ্গা, জাতসাকিনী সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালী ভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কামরুজ্জামান উজ্জল।

এসব অনুষ্ঠানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুল ওহাব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক কল্লোল, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন, মানিকহাট ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম শফি, সতাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন, সাগরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী, রানীনগর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম পিযুষ, আহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, তাঁতীবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা, দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাজাহান, রুপপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম উজ্জল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ তুষার প্রমুখ।

About admin

Check Also

কমিটি ঘোষণার পর চেয়ার ভাঙচুর আ.লীগ নেতাকর্মীদের

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মেলনে নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিশৃংখলা ও চেয়ার ভাঙচুরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *